বিয়ে করার আগে যা যা জানতে হবে।

বিয়ে করার আগে যা যা জানতে হবে।

আসসালামু আলাইকুম।
সবাই কেমন আছেন?
আশা করি সবাই ভালোই আছেন ইনশাআল্লাহ। আজ আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলবো। আমরা সবাইকেই জিবনের একটা পরজায় গিয়ে বিয়ে করতে হয় বা, আমরা বিয়ে করি। কিন্তু আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা এখনও সেই আগের যুগেই পরে আছেন। মানে পরিবার থেকে মেয়ে বা ছেলে দেখেছে বর বিয়ে। এটা যে একেবারে বেঠিক আমি সেটা বলছি না। তবে একটু জেনে বুঝে করাটা ভালো না। বর্তমান এই যুগে আসেও আমরা যদি আগের যুগের মতোই থেকে যাই তাহলে কি দরকার এই ডিজিটাল যুগের। আপনাদের একটা ছোট্ট উদাহরণ দিয়ে বুঝয়, আমরা অনেক বিষয়টা জানি তারপরও বলি, বাবা মার রক্তের গ্রুপ নেগেটিভ পজেটিভ হলে সম্ভাবনা বেশি বেশি থাকে সন্তান বিকলাঙ্গ হওয়ার। যদিও আরও অনেক কারণ থাকে তবে এটা একটা বড় কারন হতে পারে। আর আপনি চাইলেই এই কথার প্রমানও করাতে পারবেন। এই একটা বিষয়ে অনেক লেখালেখি হয়েছে।আর যদি বিয়ের এটা জানা যায় উভয়ের রক্তের গ্রুপ কি তাহলে এই বিপদ থেকে বাচা তো যাবে। আর এ ধরনের আরও অনেক বিষয় আছে যা আমরা জানবো এই ব্লগে। চলুন শুরু করি।


বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রীর কয়েকটি মেডিক্যাল পরীক্ষা করানো খুবই প্রয়োজন। এখনকার সমাজ অনেক এগিয়ে গেছে। বাবা-মায়ের প্রজন্ম এর মাহাত্ম্য না বুঝলেও, আজকালকার আধুনিক ছেলেমেয়েরা কিন্তু এর গুরুত্ব ঠিকই বোঝে। তাই বিয়ে করে আপশোস করার চেয়ে পাত্র/পাত্রীর স্বাস্থ্য কেমন, সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে । এক্ষেত্রে পাত্র/পাত্রীর বাড়ির লোকদেরও তৎপরতা প্রয়োজন। বিয়ের আগে কী কী মেডিক্যাল টেস্ট করানো উচিত জেনে নেব এখন।

যৌনসংক্রমণ রোগ আছে কি না ???

এখনকার ছেলেমেয়েরা সেক্সের ব্যাপারে অনেকটাই এগিয়ে। বিয়ের আগেই অনেক রকম অভিজ্ঞতা তাদের হয়ে থাকে । শুধু তাই নয় অধিকাংশেরই একাধিক সঙ্গীর সঙ্গে লিপ্ত হওয়ার অভিজ্ঞতাও আছে। ফলে কার শরীরে কোনও সংক্রমণ আছে, কেউ তা যাচাই করে দেখে না। এদিকে যথাযথ সময় বিয়েটাও করে নেয়।তাই পাত্র/পাত্রী HIV, গনোরিয়া, মতো যৌনরোগে আক্রান্ত কি না বলা কঠিন। তাছাড়া, কেউ এই নিয়ে মুখ খোলে না। একমাত্র মেডিক্যাল টেস্ট করালেই গোপন সংক্রমণ ধরা পারে।

শুক্রাণু পরীক্ষা করা।

বিয়ের পর সব দম্পতিই সন্তান নিতে চাইবে, আর এটই সাভাবিক। কিন্তু অনেকসময় সন্তান ধারণে অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয় স্বামী-স্ত্রীকে। এর কারণ হতে পারে স্বামী-স্ত্রী দু-জনেই। স্ত্রীর শরীর অনেকসময় সন্তান ধারণের উপযুক্ত পরিস্থিতিতে থাকে না বলে সন্তান আসে না। কিন্তু সেটা আগে থেকে জানা যায় না। তবে পুরুষের অক্ষমতা কিন্তু জানা যায় শুক্রাণু পরীক্ষা করালেই।

ব্লাড গ্রুপ চেক করা।

এ ব্যাপারে আগেই বলেছি। পাত্র/পাত্রীর ব্লাড গ্রুপ জানাও খুব জরুরি। কারণ নেগেটিভ ও পজ়িটিভ ব্লাড গ্রুপের নারীপুরুষের বিয়ে হলে পরবর্তীকালে সন্তান ধারণে ঘটতে পারে বিপত্তি। তবে এই শঙ্কাটি দেখা দেয় দ্বিতীয় সন্তান প্রসবের ক্ষেত্রে। অনেকসময় গর্ভেই সন্তান মারা যায়। কিংবা জন্মের পর তার মারাত্মকরকম জন্ডিস হয়। মস্তিষ্কও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যদিও আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থায় এটি রোধ করার পদ্ধতি আছে। সন্তান জন্মানোর সময় মায়ের শরীরে অ্যান্টিবডি ইঞ্জেকশন দিলে ক্ষতির সম্ভাবনা কমতে পারে।

মানসিকরোগ পরীক্ষা করা

সাধারণ মেডিক্যাল পরীক্ষায় সাইকোলজিক্যাল সমস্যা ধরা পড়ে না। কোনোও ব্যক্তিকে বিয়ে করার আগে সে স্বাভাবিক কি না জানা খুব দরকার। অর্থাৎ, দেখা দরকার তার কোনও মানসিক সমস্যা আছে কি না। এটি খতিয়ে দেখার জন্য পাত্র/পাত্রীর আচার ব্যবহার লক্ষ্য করতে হবে। পাড়া-প্রতিবেশী, বন্ধুবান্ধব ও অফিসের লোকজনের থেকে খোঁজখবর নিতে হবে। বিয়ের সময় পাত্র/পাত্রীর বাড়ির লোক তাঁদের ছেলেমেয়ে সম্পর্কে কোনও খারাপ কথা বলে না। কিন্তু বিয়ের পর ধরা পড়ে আসল রূপ। সুতরাং, পাত্র/পাত্রীর মানসিক সমস্যা আছে কি না সেটা দেখা খুব জরুরি।প্রয়োজনে সাইকোলজিস্টের সঙ্গে কথাও বলতে পারেন।

আর এই বিষয়গুলো চেক করে বিয়ে করলে বেশি নিরাপদ থাকা যায়। তবে সবই আল্লাহ তালার ওপরে।

আজ এ পর্যন্তই ইনশাআল্লাহ কথা বলবো অন্য কোনো ব্লগে। সবাই ভালো থাকবেন ইনশাআল্লাহ।

What's Your Reaction?

like
0
dislike
0
love
0
funny
0
angry
0
sad
0
wow
0